জামাল নজরুল ইসলাম
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জামাল নজরুল ইসলাম (জন্ম ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৩৯) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] জন্ম
জামাল নজরুল ইসলাম ১৯৩৯ সালের ফেব্রুয়ারি ২৪ ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণ করেন।
[সম্পাদনা] শিক্ষাজীবন
তিনি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন সেগুলি হল কলকাতার শিশু বিদ্যাপীঠ, মডেল স্কুল, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল, পাকিস্তানের লরেন্স কলেজের বোর্ডিং স্কুল। এরপর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএসসি অনার্স করেন। এ পর্যায়ে পড়তে যান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ট্রিনিটি কলেজ থেকে আবারো গ্রাজুয়েশন করেন। কেমব্রিজের ফলিত গণিত ও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন ১৯৬৪ সালে। ১৯৮২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অর্জন করেন এসসিডি (ডক্টর অফ সায়েন্স) ডিগ্রী।
[সম্পাদনা] কর্মজীবন
১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডে পোস্টডক্টরাল ফেলো ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত কেমব্রিজের ইন্সটিটিউট অফ থিওরেটিকাল এস্ট্রোনমিতে কাজ করেছেন। ১৯৭১-১৯৭২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে ভিজিটিং এসোসিয়েট হিসেবে, ১৯৭২-১৯৭৩ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনে সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট হিসেবে, ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে লন্ডনের কিংস কলেজে লেকচারার হিসেবে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ, কার্ডিফে সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিলের ফেলো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের লেকচারার ও রিডার ছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে অধ্যাপক পদে যোগ দেন।
[সম্পাদনা] গবেষণা ও প্রকাশনা
১৯৮৩ সালে মহাবিশ্বের পরিণতি নিয়ে লেখা তাঁর দ্য আল্টিমেট ফেট অফ দি ইউনিভার্স প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এ বইটিসহ তাঁর লেখা ও সম্পাদিত একাধিক বই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য। বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা কৃষ্ণবিবর বইটি। তাঁর দু’টি বিখ্যাত প্রবন্ধ - দ্য আল্টিমেট ফেট অফ দি ইউনিভার্স, স্কাই এন্ড টেলিস্কোপ এবং দ্য ফার ফিউচার অফ দি ইউনিভার্স, এনভেডর একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়। তাঁর অর্ধশতকেরও বেশি গবেষণাপত্র রয়েছে।
[সম্পাদনা] পুরস্কার
বাংলাদেশ একাডেমী অফ সায়েন্স ১৯৮৫ সালে তাঁকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করে। ১৯৯৪ সালে তিনি ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি মেডেল পান। ১৯৯৮ সালে ইতালির আবদুস সালাম সেন্টার ফর থিওরিটিকাল ফিজিক্সে থার্ড ওয়ার্ল্ড একাডেমী অফ সায়েন্স অনুষ্ঠানে তাঁকে মেডাল লেকচার পদক দেয়া হয়। তিনি ২০০০ সালে কাজী মাহবুবুল্লাহ এন্ড জেবুন্নেছা পদক পান। ২০০১ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।